“যে দেশে গুণীর সম্মান দেয়া হয় না সে দেশে গুণীজন জন্মায় না”
শিক্ষানুরাগী ও সমাজকর্মী মরহুম আ ফ ম ইদ্রিস আলী মিয়া ছিলেন তিন ভাই, চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তিনি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার সহড়াতলা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মরহুম আ ফ ম ইদ্রিস আলীর বাল্যকাল কেটেছে বাবার চাকরি সূত্রে বিভিন্ন জেলায়। ১৯৫৯ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে তিনি বিএ পাস করেন এবং ১৯৭১ সালে রাজশাহী বিএড কলেজ থেকে তিনি বিএড কোর্স সমাপ্ত করেন। কর্মজীবনে তিনি একজন স্বনামধন্য শিক্ষক এবং শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৬০ সালে করমদি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি যোগদান করেন। এবং অত্যন্ত সুনামের সাথে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত এই গুরুদায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি গাংনী উপজেলা শাখা প্রতিষ্ঠা করে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন সফল সংগঠক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশ গঠনকালে অসামান্য ভূমিকা রাখেন। যার ফলে ১৯৭১ সালে তেতুলবাড়িয়া ইউনিয়ন কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। অতঃপর ১৯৭৭ সালে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
১৯৮৫ সালে দ্বিতীয় বারের মতো তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন । একজন সফল চেয়ারম্যান হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় হতে ১৯৭৮ সালের ইরান সফর করেন। ১৯৮৫, ১৯৮৯ ও ১৯৯০ সালে তিনি একাধারে শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে স্বর্ণপদক লাভ করেন । এ সময় তিনি গাংনী থানা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন তিনি পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন । তাঁর ছাত্র প্রফেসর ডঃ মোঃ মোখলেছুর রহমানের অনুরোধে তিনি পূর্বপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় জাপানি স্কুল এর সভাপতি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সন্ধানী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মেহেরপুর জেলা ইউনিটের আজীবন সদস্য ছিলেন। আপাদমস্তক শিক্ষানুরাগী সমাজকর্মী রাজনীতিবিদ আ ফ ম ইদ্রিস আলী ২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি স্ত্রী এক ছেলে, তিন মেয়ে ও অসংখ্য গুনগ্রাহীকে শওকের সাগরে ভাসিয়ে পরলোকগমন করেন। তার এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ গাংনী ফাউন্ডেশন সমাজ সেবায় সম্মাননা প্রদান করেছে।
অধ্যাপক ডঃ মোখলেছুর রহমান গাংনী উপজেলার একজন কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব। তিনি গাংনী গ্রামের জন্মগ্রহণ করেন। অসম্ভব মেধাবী এই কৃতি সন্তান শিক্ষা জীবন থেকে শিক্ষা সম্পর্কে জানো স্বাক্ষর রেখেছেন। দশম শ্রেণীতে পড়াশোনা করার সময় তিনি গ্রামে নিজ উদ্যোগে পূর্ব পাড়া প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি শিক্ষাজীবন শেষে গত 30 বছর ধরে জাপানের Japan University of Economics( FUKUOKA Campus) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যাপনা করে আসছেন।
সুদূর বিদেশ-বিভুঁইয়ে থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজ গ্রাম ও এলাকার প্রতি তার মমত্ববোধ অপরিসীম। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাংনীতে সন্ধানী স্কুল ও কলেজ নামে ১৯৮৯ সালে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। যা বর্তমানে যশোর বোর্ডের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে । এছাড়াও তিনি গাংনীতে একটি মেডিকেল স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার নিজ গ্রাম করন্দি তিনি একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে চিকিৎসা সেবায় অনন্য অবদান রেখে চলেছেন। তার এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন সমাজসেবায় তাকে সম্মাননা প্রদান করেছে।
দাতো‘মোঃ একরামুল হক একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। তিনি গাংনী উপজেলার মানিকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক করার তিনি এমবিএ সম্পন্ন করেন। তিনি বাংলাদেশের একজন সফল ও মানবিক ব্যবসায়ী। বাংলদেশ ও মালয়েশিয়ায় টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ও অন্যান্য ক্ষেত্রে তার ব্যবসায় রয়েছে। বর্তমানে তিনি তাওফিকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সারাদেশে বিস্তৃত ‘লাভেলো’ আইসক্রিম তার মালিকানাধীন তাওফিকা গ্রুপের বহুল পরিচিত ব্র্যান্ড। দাতো‘ হক বিভিন্ন সামাজিক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানে জড়িত আছেন।
তিনি বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালনা করেন। সেখান থেকে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ বিনা খরচে শিক্ষা লাভ করতে পারেন। তিনি পর পর তিন টার্ম গাংনী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মেহেরপুর জেলা সমিতির সহ-সভাপতি। ২০১২ সালে তাঁকে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে গুণীজন সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়াও তিনি ২০০৯ ও ২০১০ সালে ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যা সাগর এবং লালন একাডেমি থেকে শিল্প ও বাণিজ্যে অসামান্য অবদান রাখার জন্য স্বর্ণ পদক লাভ করেন। তিনি মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যের সুলতান এর কাছ থেকে মালয়েশিয়ার টেলিযোগাযোগ ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সম্মানসূচক দাতো’ উপাধী লাভ করেন।